গ্রামীণফোন পুনরায় তিন কোটি সিম বিক্রির অনুমতি পাচ্ছে

0

গ্রামীণফোন কোম্পানি লিমিটেড পুনরায় প্রায় তিন কোটি সিম বিক্রির অনুমতি পাচ্ছে। বিদ্যমান সিম সংকট কাটিয়ে উঠতে অবশেষে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনর্নিবন্ধন না হওয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে বন্ধ থাকা সংযোগসহ মোট তিন কোটি সিম পুনরায় বিক্রি করবে কোম্পানিটি । ‘০১৭’ সিরিজের ১০ কোটি সিমের মজুদ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় কোম্পানিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমতি দিয়েছে টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বিটিআরসি থেকে এ বিষয়ে কোম্পানিটিকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ চিঠি গ্রামীণফোনের কাছে পৌঁছবে বলে জানা গেছে।


গ্রামীণফোনকে বন্ধ সিম বিক্রির অনুমতি প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসি’র মুখপাত্র ও সচিব সারওয়ার আলম বলেন, ‘গ্রামীণফোনকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনর্নিবন্ধন না হওয়াসহ বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় তিন কোটি সিম পুনরায় বিক্রির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর অনিবন্ধিত কিংবা অন্য কোনো কারণে বন্ধ সিম পুনরায় বিক্রি করতে পারবে কোম্পানিটি।

বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে ‘০১৭’ সিরিজের নয় ডিজিট নিয়ে বাংলাদেশে সেলফোন অপারেটর হিসেবে ব্যবসা শুরু করে বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন। পথচলার ২০ বছরে কোম্পানিটির গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দুই দফায় একটি করে ‘১’ ডিজিট যোগ হয়ে সর্বশেষ নম্বর ১১ ডিজিটে দাঁড়ায়। টেলিকম খাতের শীর্ষ এ কোম্পানিটির প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি সিম বর্তমানে চালু রয়েছে। অন্যদিকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনঃনিবন্ধন না হওয়ায় গ্রামীণফোনের প্রায় পৌনে এক কোটি নম্বর বন্ধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণফোনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিম বন্ধ করে দিয়েছে বিটিআরসি।
এছাড়া ভবিষ্যতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যবহারের জন্য কোম্পানিটির কিছু সিম সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এসব কারণে চলতি বছরে ফেব্রুয়ারিতে গ্রামীণফোনের জন্য বরাদ্দ করা ‘০১৭’ সিরিজের ১০ কোটি সেলফোন নম্বরের মজুদ শেষ পর্যায়ে চলে যায়।

এদিকে গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট জটিলতা এড়াতে প্রায় দুবছর আগে নতুন সিরিজ বরাদ্দ কিংবা বন্ধ থাকা সিম চালুর বিষয়টি বিটিআরসিকে জানিয়েছে গ্রামীণফোন। তবে বন্ধ সিম চালুর বিষয়টি ‘সময়সাপেক্ষ’। কারণ নোটিশ প্রদান সাপেক্ষে টানা ১৫ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা সিম পুনরায় বিক্রি করতে গ্রামীণফোনকে কমপক্ষে ১৫ মাস অপেক্ষা করতে হবে।

তাই ২০১৬ সালের শুরুতে পুরোনো সিম বিক্রির বদলে নতুন ‘০১৩’ সিরিজ বরাদ্দ চেয়ে বিটিআরসির কাছে আবেদন করে গ্রামীণফোন। ওই বছরের ২১ আগস্ট কমিশন সভায় গ্রামীণফোনকে শর্ত সাপেক্ষে নতুন ‘০১৩’ সিরিজ বরাদ্দও দিয়েছিলো বিটিআরসি।
তবে ‘নিরীক্ষা’ ইস্যুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার কারণে চলতি বছরের শুরুতে নতুন সিরিজ চালুর অনুমতি থেকে সরে আসে বিটিআরসি। চলতি বছরের শুরুতে বিটিআরসির কমিশন সভায় গ্রামীণফোনকে নতুন ‘০১৩’ সিরিজ চালুর অনুমতির বদলে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনঃনিবন্ধন না করা পৌনে এক কোটি ও বিভিন্ন সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া সিমসহ প্রায় তিন কোটি সিম পুনরায় বিক্রির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর জের ধরে কোম্পানিটিকে প্রায় তিন কোটি সিম বিক্রির অনুমতি দিয়েছে সংস্থাটি।


সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি চিঠিও গ্রামীণফোনকে পাঠানো হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নির্ভরশীল একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে ‘বিটিআরসির চিঠি হাতে পাওয়ার আগে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য’ করতে চাননি গ্রামীণফোনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক সেলফোন কোম্পানি গ্রামীণফোনের প্রায় ১৩৫ কোটি তিন লাখ শেয়ার পুঁজিবাজারে রয়েছে। এরমধ্যে ৯০ শতাংশ শেয়ারই উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে। সর্বশেষ আর্থিক বছরে প্রায় দুই হাজার ২৫২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে কোম্পানিটি।

এর আগের আর্থিক বছরে (২০১৫-১৬) এক হাজার ৯৭০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিলো টেলিযোগাযোগ খাতের শীর্ষ কোম্পানিটি। এর বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের ১৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিলো। আর সর্বশেষ আর্থিক বছরের জন্য ১৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে গ্রামীণফোন। ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও এগিয়ে থাকার কারণে তালিকাভুক্তির পর থেকে কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।

নোটঃ খবরটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং আমাদের ফেসবুক পেইজ আমার সকাল এ লাইক দিয়ে এক্টিভ থাকুন। আপনার মন্তব্য লিখুন

SHARE.করুন

Vision

Share.

About Author

Leave A Reply

Powered by themekiller.com